ঈশ্বর সম্পর্কিত শুদ্ধ জ্ঞান
১. ঈশ্বর কাকে বলে?
উ. প্রকৃতিই ঈশ্বর শক্তি কিন্তু ঈশ্বর না। প্রকৃতির নিয়ম ঈশ্বর নিয়ম বা আইন। আপনি প্রকৃতির নিয়মেই চলছেন, প্রকৃতির নিয়ম পরিবর্তন করা আপনার আমার সামর্থ্যের বাহিরে। আপনি প্রকৃতিকে দেখতে পারেন বা অনুভব করতে পারেন। আপনি প্রকৃতির নিয়ন্তাকে খুঁজে পান না। এটাও আপনার আমার সামর্থ্যের বাহিরে। তাপালো, মাটি, পানি ও বাতাস সব কিছুই প্রকৃতির দান মূলত চন্দ্র সূর্য পৃথিবী ও ব্রহ্মান্ড সব কিছুই প্রকৃতির দান। ঈশ্বর প্রকৃতির নিয়ন্তা কিন্তু আমরা প্রকৃতির অনুকূলে। অর্থ্যাৎ ঈশ্বর আমাদের নিয়ন্তা নয় তিনি কেবল প্রকৃতির নিয়ন্তা। যেহেতু আমরা প্রকৃতির অনুকূলে সেহেতু আমরাও ঈশ্বরের অনুকূলে। সুতরাং ঈশ্বর কোনকিছুই সৃষ্টি করেনি, যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে তা সবই প্রকৃতির দান এবং এই প্রকৃতির নিয়ন্তাকেই ঈশ্বর বলা হয়।
❤️ ধর্মগ্রন্থে ঈশ্বরকে নিরাকার বলা হয়েছে এবং ভগবানকে সাকার রুপ দেয়া হয়েছে। সুতরাং আপনি সাক্ষী হিসেবে প্রকৃতিকে পাবেন এবং অস্তিত্ব হিসেবে আপনি নিজেকেই পাবেন। আপনি আপনার নিজের মধ্যেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব খুঁজে পাবেন যখন নিজের অস্তিত্বকে জানতে পারবেন।। আপনি কখনোই প্রকৃতির মাঝে ঈশ্বরকে খুঁজে পাবেন না কিন্তু উপলব্ধি করতে পারবেন।।
❤️ঈশ্বরের মধ্যে অনেক গুণ রয়েছে। তিনি কর্মও করেন।
২. ঈশ্বরের রূপ কেমন?
উ. ঈশ্বর নিরাকার, তার কোনো রূপ বা শরীর নেই। এইজন্য আমরা তাঁকে চোখ দিয়ে কখনই দেখতে পারি না। তাকে কেবল উপলব্ধি করা সম্ভব।
৩. ঈশ্বরের কাজ কী কী?
উ. ঈশ্বর প্রকৃতির নিয়ন্তা, তিনি কেবল প্রকৃতিকেই নিয়ন্ত্রণ করে।
❤️ ঈশ্বর তার নিয়মে অটুট। প্রকৃতির নিয়ম ঈশ্বর নিয়ম বা আইন।
❤️ প্রানী জাতির সংগে ঈশ্বরের কোন সম্পর্ক নেই। তবে কেউ ইচ্ছে করলেই ঈশ্বরকে উপলব্ধি করতে পারে। তার সাথে সম্পর্ক বা কানেকশন তৈরি করে নিতে পারেন।
❤️ ঈশ্বর ভালো-মন্দ কাজের ফল দেন, অর্থ্যাৎ তিনি কর্মের ফল প্রকাশিত করেন।
৪. সূর্য, চন্দ্র, পর্বত, সাগর ইত্যাদি সমূহকে কে তৈরি করেছেন?
উ. প্রকৃতির নিয়মেই / ঈশ্বর।
৫. ঈশ্বর কতজন?
উ. ঈশ্বর একজনই, তিনি সর্বব্যাপক, সর্বশক্তিমান। সর্বশক্তির মূলেই ঈশ্বর।
৬. ঈশ্বরের অনেক নাম কেন?
উ. ঈশ্বরের নাম একটাই। আরবী নামে আল্লাহ, হিব্রু নামে জিহেয়াবা, আরামিক নামে ইলহা বা ইলা, ইংরেজিতে গড বাংলায় ঈশ্বর, হিন্দুরা ভগবান বলেও জানে।
৭. ঈশ্বরের মুখ্য নাম কি?
উ. "ও৩ম্" ঈশ্বরের মুখ্য নাম।
৮. ও৩ম্ এর মুখ্য অর্থ কি?
উ. সর্বরক্ষক।
৯. ঈশ্বরের কিছু গৌণ নাম বলুন?
উ. আর্য সমাজের নিয়ম ২ এর আধারে:-
সচ্চিদানন্দস্বরূপ, সর্বশক্তিমান, সৃষ্টিকর্তা, সর্বব্যাপক, সর্ব অন্তরযামী, অজন্মা, অনাদি , অনন্ত, অনুপম, অমর, অজয়, অভয়, ন্যায়কারী, নিরাকার, নির্বিকার, নিত্য, দয়ালু এবং পবিত্র।
(খ) প্রাণায়াম মন্ত্রের আধারে:-
ভূ, ভুব, স্বঃ, মহাঃ, জনঃ, তপঃ, সত্য।
১০. ঈশ্বরের অন্য কিছু গৌণ নাম বলুন?
উঃ ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ, গণেশ, শিব, ইন্দ্র, বরুণ, সোম, মঙ্গল, বুধ, শুক্র, শনি, রাহু, কেতু, অগ্নি ইত্যাদি।
১১. ঈশ্বর কি আমাদের শাস্তি দেন ?
উ. ঈশ্বর আমাদের তৎক্ষণাৎ শাস্তি দেন না, কিন্তু কর্মের ফল ঠিকই প্রকাশ করেন যা আমরা বুঝতে পারি না।
১২. ঈশ্বরের সাথে আমাদের কী সম্পর্ক ?
উ. ঈশ্বর একক শক্তি। মানব জাতির সাথে ঈশ্বরের কোন সম্পর্ক নেই। তবে চেষ্টা করলে সম্পর্ক করা সম্ভব।
১৩. ঈশ্বর নিরাকার। তাঁর সাক্ষাৎকারের অর্থ কী?
উ. কোনো বস্তুর গুণের অনুভব বা উপলব্ধি হওয়া হলো সাক্ষাৎকার। প্রত্যক্ষ কেবল চোখ দিয়ে হয় না। অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের দিয়েও হয়। যখন আত্মা ঈশ্বরের জ্ঞান, বল, গুণ, আনন্দ ইত্যাদি গুণাবলী অনুভব করে তখন তাকেই ঈশ্বর সাক্ষাৎকার বলে।
১৪. ঈশ্বরকে কেন সর্বশক্তিমান বলা হয়?
উ. ঈশ্বর একক শক্তি। ঈশ্বর নিজ সামর্থ্য দ্বারা নিজের সব কাজ পূর্ণ করেন। কারোর সাহায্য নেন না। এইজন্য ঈশ্বরকে সর্বশক্তিমান বলা হয়।
১৫. ঈশ্বরের জ্ঞান কি সর্বদা একই থাকে নাকি বৃদ্ধি হ্রাস পেতে থাকে?
উ. সব কিছুর পরিধি নির্নয় সম্ভব কিন্তু জ্ঞানের পরিধি নির্নয় অসম্ভব। ঈশ্বরের জ্ঞান সর্বদা একই থাকে।
১৬. ঈশ্বরের সাক্ষাৎকার (দর্শন) কে করে?
উ. যে ব্যক্তি পরম ধর্মের অর্থ বোঝে ও পালন করে। যে ব্যক্তি ঈশ্বরকে নিয়ে সাধনা করে। যে ব্যক্তি প্রকৃতি থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পারে।
১৭. ঈশ্বর এবং আত্মার মধ্যে পার্থক্য কি?
উ. ঈশ্বর পরমাত্মা, আমরা জীবাত্মা, দেবতারা আত্মারামেশ্বর, ঈশ্বর পরিপূর্ণ ও আমরা তার অংশ বিশেষ। ঈশ্বর প্রানীর আত্মা প্রদানকারী, এই আত্মা ঈশ্বরের বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করে। আত্মার অন্য কোন কাজ নেই।
১৮. ঈশ্বরকে সাকার মানলে কি ক্ষতি?
উ. নামে কিছুই আসে যায়না, একটি কলা গাছকে ঈশ্বর জ্ঞান করে স্বরন করাটা পাপ নয়। তবে এটাতে নির্বোধের প্রমান মিলে।
১৯. বেদের মধ্যে ঈশ্বরের স্বরূপ কী?
উ: বেদের মধ্যে ঈশ্বরকে সর্বব্যাপক, সর্বজ্ঞ, নিরাকার, ন্যায়কারী, কর্মফল দাতা ইত্যাদি গুণাবলীর বর্ণনা করা হয়েছে।
২০. ঈশ্বরকে মূর্তি রূপে তৈরি করে পূজা কখন থেকে শুরু হয়েছিল?
উ. প্রায় 2500 বছর আগে আরম্ভ হয়েছিল। এর আগে মানুষ নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনা করতো।
২১. ঈশ্বরের গৌণ নামে মূর্তি বানানো কি ঠিক?
উ. ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি হয়না কিন্তু দেবতাদের মূর্তি হয়।
২২. বৈদিক ধর্ম/বেদে কি ঈশ্বরের অবতার নেওয়া কি বলা হয়েছে?
উ. ঈশ্বরের জন্ম মৃত্যু নেই তাই যুগে যুগে ঈশ্বর অবতীর্ণ হয় না, যুগে যুগে ভগবান বা দেবতারা অবতীর্ণ হন।
২৩. ঈশ্বর ও ভগবানের প্রার্থক্য কি?
উ. ঈশ্বর একক শক্তি, ভগবান ঐশ্বরিক শক্তি বহন করে। ভগবান সংস্কৃত শব্দ যার বাংলা অর্থ দেবতা। ভগবান ছয়টি গুনের অধিকারী আর ঈশ্বর সকল গুনের অধিকারী।
২৪. পুরুষোত্তম রাম এবং যোগীরাজ কৃষ্ণের সময়ে কী ঈশ্বর ছিল না?
উ. তাদের সময়েও ঈশ্বর ছিল এবং তারাও নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনা করতো।
২৫. ঈশ্বর আধ্যাত্মিক শুদ্ধ জ্ঞান কখন দেন?
উ. চেষ্টার অপর নাম সাধনা, যার সাধনা যেমন তার সাফল্যও তেমনি হয়। ঈশ্বর আধ্যাত্মিক শুদ্ধ জ্ঞান মানুষকে তার মনের সমাধি অবস্থায় দেন।
২৬. প্রকৃতি এবং জীবদের উপর নিয়ন্ত্রণ কে রাখেন?
উ. ঈশ্বর প্রকৃতির নিয়ন্তা আর প্রানীর নিয়ন্তা তার মন। অর্থ্যাৎ প্রানী তার নিজ ইচ্ছেই চলে।
২৭. ঈশ্বরের নিয়ম কী অটল?
উ. হ্যাঁ। উদাহরণঃ
—যেমনভাবে সূর্য প্রথমে উদিত হতো তেমনভাবেই আজও উদিত হয়।
— ব্রহ্মাণ্ডে অনেক গ্ৰহ উপগ্ৰহ ভ্রমণ করছে। কিন্তু তারা নিজেদের মধ্যে কখনই সংঘর্ষে লিপ্ত হয় না।
২৮. ঈশ্বর প্রাপ্তির (সাক্ষাৎকার) কি উপায়?
উ. বৈদিক গ্ৰন্থের স্বাধ্যায়, সেই অনুসারে আচরণ করা, বৈদিক সৎসঙ্গ, ধ্যান এবং ঈশ্বর ভক্তি— ঈশ্বর অনুভূতির উপায়।
২৯. ঈশ্বরের ধ্যান করার মধ্যে কি লাভ হয়?
উ. ঈশ্বর যেমন একা তেমনি একা থাকার আনন্দ।
—মনে অধিকার হয়।
—ইন্দ্রিয় গুলোতে নিয়ন্ত্রণ হয়।
—একাগ্রতা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
—সাত্বিক বুদ্ধি বা ভাল সংস্কার প্রাপ্ত হয়।
—ঈশ্বরীয় আনন্দের অনুভূতি হয়।
৩০. নিরাকার ঈশ্বর উপাসনার বিধি বলুন?
উ. কলি যুগের মহামন্ত্র যব করুন। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আপনাকে ঈশ্বর কর্তৃক পৌছাতে সাহায্য করবে। এছাড়াও যম-নিয়ম পালন, ও৩ম বা গায়ত্রী মন্ত্র জপ ( অর্থ/ভাবার্থ সহিত), ধ্যান এবং বৈদিক সন্ধ্যা দ্বারা নিরাকার ঈশ্বরের ভক্তি উপাসনা করা হয়। এটা অনেক সহজ।
❤️( প্রাকৃতিক জ্ঞান)